হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

5/5 - (2 votes)

হযরত উসমান (রাঃ) এর জীবনী

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আফফান ওর ওয়াহ। ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় খলিফা। বাল্যকাল থেকেই তিনি নম্র-ভদ্র লজ্জাশীল ও বিনয়ী ছিলেন। তার চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রথম কন্যা রুকাইয়া কে তার নিকট বিবাহ দেন। রুকাইয়া মারা গেলেও অতঃপর উম্মে কুলসুম কে তার কাছে বিবাহ দেন। শোলে যুন্নুরাইন বলা হত। তিনি ব্যবসা করতেন বিধায় তার অনেক সম্পদ ছিল। তাই তাকে গনি অর্থাৎ ধ্বনি বলা হত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণে তার চাচা হাকাম তাকে অনেক নির্যাতন করেন ।তার নিকটাত্মীয়রা ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন তার স্ত্রী রুকাইয়া সহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর ইসলাম গ্রহণের পর সর্বদা ইসলাম প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সাথে থাকতেন। এ কাজে তিনি তার সম্পদ উদারহস্তে ব্যয় করেন। তিনি নিজের খরচে মসজিদে নববী সম্প্রসারণ করেন। মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন তিনি। তাবুক যুদ্ধে তিনি 10 হাজার দিনার অর্থাৎ মুদ্রা ও 1000 উট সেনাবাহিনীকে দান করেন।

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা নির্বাচিত হলেন।অতঃপর তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদন এর পাশাপাশি পবিত্র কুরআন সংকলনে হাত দেন।মুসলিম সাম্রাজ্যে বিস্তৃত হলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন পবিত্র কুরআন বিভিন্নভাবে তিলাওয়াত করতে লাগলো। ফলে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দিল। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করলেন। রাষ্ট্রীয় নির্দেশ জারি করে তখনকার সময়ে বিদ্যমান পবিত্র কুরআনের সকল কপি সংগ্রহ করলেন।করার মাধ্যমে কুরআন সংকলনের কাজ সমাপ্ত করেন।

অতঃপর মুসলিম জাহানের গভর্নরদের নিকট একটি কপি পাঠান। অবশিষ্ট সংগৃহীত কপিগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।পবিত্র কুরআনকে মূল ভাষা অনুযায়ী সংকলন করার ফলে তাকে জামিউল কুরআন বলা হয়।হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দীর্ঘ ১২ বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।অবশেষে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে ৮৩ বছর বয়সে কতিপয় বিদ্রোহের হাতের শাহাদাত বরণ করেন।বন্ধু রয়েছে জান্নাতে আমার বন্ধু হবেন ওসমান।

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কার আমলে ইসলামী খিলাফত ব্যাপক বিস্তৃত হয়।পশ্চিমে মরক্কো পূর্বে বর্তমান পাকিস্তানের দক্ষিণ পূর্ব এবং উত্তরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পর্যন্ত তা বিস্তার লাভ করে। তার সময়ে সর্বপ্রথম মুসলিম নৌ-বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক বিভাগ সমূহ সম্প্রসারিত হয় এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।তিনি অনেকগুলো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পাদন করেন যাতে করে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হয়।

তিনিহযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কর্তৃক প্রবর্তিত ভাতা প্রায় 25 ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।তার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়।তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বাজার পরিদর্শক কর্মকর্তা নিয়োগ করেন কৃষি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রদেশের প্রশাসক নিয়োগ করেন।
খলিফা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তিনি নিজের জন্য কোন বেতন ভাতা গ্রহণ করতেন না।তার প্রথম ছয় বছরের শাসনামলে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিলেন।

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

আরো জানতে 

About bdbarguna24

Check Also

শেরে সমন্দর খাইরুদ্দিন বারবারোসা ১ম পর্ব

Rate this post শেরে সমন্দর খাইরুদ্দিন বারবারোসা ১ম পর্ব মওলানা ইসমাইল রেহান হাফি অনুবাদক: মুসাব্বির …

Leave a Reply Cancel reply