হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী
হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

5/5 - (1 vote)

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই। তিনি ৬০০ খৃস্টাব্দ মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবু তালিব ,মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। তিনি ছোটদের মধ্যে প্রথম মুসলমান। তিনি ১০ বছর বয়সে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি আশারা ই মুবাশশারার (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী) এর একজন এবং ইসলামের চতুর্থ খলীফা। ছোটকাল থেকেই গানের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। তিনি সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাথে থাকতেন।

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার ভক্তি ও শ্রদ্ধা ছিল অসীম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি তার অতি আদরের কন্যা ফাতিমাকে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সাথে বিবাহ দেন। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু খুব নির্ভীক ও সাহসী ছিলেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সময় তাকে তার বিছানায় রেখে যান।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমানত রাখা সম্পদকাছে ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। এতে তার জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এরপরও তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন একজন অসাধারণ বীর যোদ্ধা। তার বীরত্বের কারণে বদরের যুদ্ধে জুলফিকার নামক তরবারি উপহার পান।আসাদুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর সিংহ উপাধি দেন।তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধির লেখক ছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর পতাকা বহনকারী ছিলেন। জ্ঞান সাধক হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন জ্ঞানপিপাসুদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তার জ্ঞান চর্চা অব্যাহত ছিল। কুরআনের তাফসীর হাদীস এর বিশ্লেষণ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। আরবি ভাষার ব্যাকরণ রচনায় তার প্রধান ভূমিকা ছিল। তাঁর জ্ঞানের ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,আমি জ্ঞানের শহর আর আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার দরজা। দেওয়ান আলী আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিনি তার শাসনামলে মসজিদে জ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা করেন।

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর শাহাদাত বরণ করেন। এরপর মুসলমানদের মতামতের ভিত্তিতে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা নির্বাচিত হন। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হন। অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে এগুলো সমাধা করেন।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর আমলে মুসলমানগন উপদলীয় কোন্দল লিপ্ত হয়েছিল।তিনি শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।তিনি রাজনৈতিক জোট গঠন করেন এবং প্রশাসনের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করেন।নাগরিকগণের মধ্যে বন্টন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।যেহেতু তখন প্রায় সকল মুসলমানি বেদুইন ও কৃষক ছিলেন সে কারণে তিনি ভূমি ও কৃষি উন্নয়নের বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর প্রশাসনিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে মিশরের গভর্নর মালিক আল-আশতার এর কাছে প্রেরিত নির্দেশমূলক একটি চিঠিতে।তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন তুমি তোমার প্রজাদের জন্য তোমার অন্তঃকরণে ক্ষমা ভালোবাসা ও দয়া প্রবিষ্ট করো। তাদেরকে সহজে শিকার যোগ্য মনে করে তাদের সম্মুখে পেটুক জন্তুর মত হয়ো না। কেননা তারা দুই ধরনের হয়তো তারা তোমার ধর্মীয় ভাই নয় তো তারা সৃষ্টিগতভাবে তোমার সমান।তারা অসতর্কভাবে ভুল করতে পারে তাদের অদক্ষতা থাকতে পারে তাদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ সংঘটিত হতে পারে।

সুতরাং তাদেরকে সেভাবেই ক্ষমা করো যেভাবে তুমি আল্লাহর কাছে তার ক্ষমা প্রত্যাশা করো।কেননা তুমি তাদের উপরে এবং চেয়ে তোমাকে নিযুক্ত করেছে সে তোমার উপরে আর আল্লাহ তার উপরে যে তোমাকে নিযুক্ত করেছেন।তুমি তাদের চাহিদাগুলো পূরণ করবে আল্লাহ তাই প্রত্যাশা করেন এবং তিনি তাদের দ্বারা তোমাকে পরীক্ষা করছেন। উল্লেখ্য যে উপযুক্ত নির্দেশনাকে ইতিহাসে আদর্শ সংবিধান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

হযরত আলী ( রা: ) এর জীবনী

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন সহজ সরল ও আত্মত্যাগের সুমহান আদর্শ। ছোটকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। নিজের খাদ্য নিজেই জোগাড় করতেন। কখনো কখনো অনাহারে থাকতেন। তিনি নিজের কাজ নিজেই করতেন। জীর্ণ কুটিরে বসবাস করতেন। ধনী-দরিদ্র সকলের সাথে মিলেমিশে চলবেন। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর এসব গুণাবলী তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তিনি প্রায় ছয় বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে ইবনে মুলজাম নামক এক পথ ভ্রষ্ট খারেজির হাতে শাহাদত বরণ করেন। তখন তিনি নামাজ রত অবস্থায় ছিলেন।রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু প্রত্যেক মুমিনের বন্ধু।

শেরে সমন্দর খাইরুদ্দিন বারবারোসা ১ম পর্ব

শেরে সমন্দর খাইরুদ্দীন বারবারোসা ২য় পর্ব

আরো জানুন

About bdbarguna24

Check Also

শেরে সমন্দর খাইরুদ্দিন বারবারোসা ১ম পর্ব

Rate this post শেরে সমন্দর খাইরুদ্দিন বারবারোসা ১ম পর্ব মওলানা ইসমাইল রেহান হাফি অনুবাদক: মুসাব্বির …

One comment

  1. Pingback: আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে আমরা কিভাবে কোন বস্তু দেখতে পাই? - BD BARGUNA 24

Leave a Reply Cancel reply