কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম
কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

5/5 - (1 vote)

কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

বিয়ে একটি সামাজিক প্রথা। বিশ্বের সব দেশেই একজন নারী একজন পুরুষের সাথে বিয়ের মাধ্যমে আবদ্ধ হয়। বিয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের নতুন জীবন। শুরু হয় একটি নতুন সংসার। আমাদের দেশের বিয়ের যেসব নিয়ম প্রচলিত আছে তার মধ্যে রয়েছে গায়ে হলুদ, বিয়ের অনুষ্ঠান এবং বৌভাত। গায়ে হলুদের দিন কনের গায়ে হলুদ দেওয়া হয়।এইদিন কনের বাড়ির লোক এবং বরের আত্মীয়-স্বজন এসে মোহরানা দিয়ে গায়ে হলুদ দিয়ে তাকে দোয়া করে। এর পরের দিন কনেকে বরের বাড়িতে নেয়া হয়। এটাই বিয়ে এর প্রধান অনুষ্ঠান। এবং বৌভাতের দিন কনের বাড়ির লোক গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনে।

এই নিয়মগুলো আমাদের কাছে অতি পরিচিত এবং আনন্দদায়ক। তবে বিশ্বের সব দেশের বিয়ের নিয়ম একরকম নয়। অনেক অদ্ভুত এবং নিয়ম প্রচলিত আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আজকে আমরা জেনে নেবো দেশের সেই সকল কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম।

কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

চীনের একটি প্রদেশের বিয়ের দিন কনের বস্ত্র খুলে নেয়া হয়। বর পক্ষের লোকজন এবং বরের বন্ধু বান্ধব সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কোন এর গায়ের সব কাপড় খুলে ফেলতে। এবং প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে বর।এটি তারা করে থাকে কারন তারা বিশ্বাস করে এই দিন কনের বস্ত্রহরণ ঠেকাতে পারলে সারা জীবন কনে বরের কাছে নিরাপদ থাকবে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতি হলেও এটাই সত্যি।
তাদের কাছে এটি পুরোপুরি সাধারণ এবং প্রচলিত।

সুইডেনের একটি অঞ্চলে এক অদ্ভুত নিয়ম প্রচলিত আছে। বিয়ের বিয়ের কনের চোখ বেঁধে দেয়া হয়। এবং বরের বাড়ির সব হবে বাহিত পুরুষ কনেকে চুম্বন করে। এটি ছোট-বড় যে কেউ করতে পারে। এটি সুনতে বড় ই অস্বস্তিকর শোনায়।
সেইসাথে বরের চোখ বেঁধে দেয়া হয় এবং কনের বান্ধবীরা বরকে চুম্বন করে। এইনিয়মটি তাদের মধ্যে প্রচলিত।
কানাডার একটি অঞ্চলে, বিয়ের ঠিক ৩০ দিন আগে থেকে উৎসব করে কান্না করা শুরু হয়।
কনে ৩০ দিন আগে থেকে কান্না করা শুরু করে। তার ঠিক ১০ দিন পর তার মা তার সাথে যোগদান করে।
এবং তার দশ দিন পর দাদি কান্নায় যোগদান করে। তারা নিয়ম করে ঠিক এক ঘণ্টা কান্না করে থাকে।
এটি মোটেও তাদের কাছে কোন কষ্টের কান্না নয়। এটি তাদের সুখ আনন্দ এবং পবিত্রতার প্রতীক।

কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

আরো একটি দেশের কথা জানা গেছে যেখানে বিয়ের পূর্বে কোন এ কে অপহরণ করা হয়। অপহরণ করে নিয়ে কোন একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এবং ততক্ষণ পর্যন্ত বউ অভুক্ত অবস্থায় থাকে। যখন বর পক্ষের কোনো একজন মহিলা এসে তাকে একটি ওড়না পরিয়ে দেয় তখন তাকে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

নেদারল্যান্ডে বিয়ের পূর্বে বরকে প্রথমে শোয়ানো হয়। দড়ির মাধ্যমে তার হাত এবং পা বেঁধে দেয়া হয়। এবং মাছের কাঁটা যুক্ত লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় পায়ে।
এটি বরের জন্য একটু অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক হলেও তাদের বিশ্বাস বিয়ের প্রথম রাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের পূর্বশর্ত এটি।

স্কটল্যান্ড একটি পরিচিত দেশ।এখানে বিয়ের পূর্বে বর-কনেকে একসাথে করা হয়। এবং তাদের গায়ে নানা রকম আবর্জনা ফেলা হয়।কুসুম্বা বর্জনের মধ্যে রয়েছে ঘাটালের ময়দা পচা ডিম তরকারি ইত্যাদি।
এটি করা হয় যেন কোন খারাপ আত্মা তাদেরকে আক্রমণ করতে না পারে।

ভারতের কিছু অঞ্চলে কনের শরীরে কোন অস্বাভাবিক অবস্থা দেখলে তাকে পশুর সাথে বিয়ে দেয়া হয়। তাদের বিশ্বাস পশুর সাথে বিয়ে দিলে তাদের শরীরের এই অস্বাভাবিক অবস্থা কেটে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়।

কিছু অদ্ভুত বিয়ের নিয়ম

এমন ই নিয়ম প্রচলিত হয়ে আসছে বিভিন্ন দেশে।‌ এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন জাতিভেদে বিশ্বাস এবং নিয়ম-কানুনের বিভিন্নতা।তবে যে নিয়ম প্রচলিত থাকুক না কেন তার পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হল যেন
বর এবং বউয়ের জীবন সুখের হয়।

About bdbarguna24

Leave a Reply Cancel reply