গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে
গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে

Rate this post

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে

প্রতিটা মেয়ের জীবনে গর্ভাবস্থায় সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সঠিক পরিচর্যা এসময়ে সুফল বয়ে আনে।  তবে এই সময়ে একটু সচেতন হলেই অনেক রকম সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
এমনকি এই সময়ে অসতর্কভাবে কাজ করলে গর্ভবতী মায়ের জীবন ঝুঁকি পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে। আজকে আমরা সেসব কাজ জেনে নিব গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে ।

  • গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের কখনোই দূর পথে ভ্রমণ করা উচিত নয়। ভ্রমণ অবস্থায় প্রচুর ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়।এই ঝাঁকুনি থেকে সন্তান পরিণত হওয়ার আগেই ভূমিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে। এটি গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মৃত সন্তান জন্ম দিবে।
  • এছাড়া ঝাকুনিতে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।ভ্রমণ যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন গর্ভাবস্থায় তা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় কখনোই উঁচু সিঁড়ি থেকে অসতর্কভাবে নামা যাবে না। উচু সিঁড়ি ওঠানামা করার সময় অনেক গর্ভবতী মা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
  • একজন গর্ভবতী মা যদি উঁচু সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে যায় তাহলে তার সন্তান তো মারা যাবে, সাথে তার নিজেরও প্রাণের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। তাই গর্ভাবস্থায় উপরে নিচে ওঠানামা করা যাবে না। এক্ষেত্রে কারো সাহায্য নিতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবেগর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে
  • গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া উচিত নয়।তেঁতুলে রয়েছে তীব্র এসিড যা গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের ক্ষতি করে।
    ভ্রূণ অপরিপক্ক অবস্থায় তেতুল খেলে তার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অতি শীঘ্রই তার মায়ের পেট থেকে ছিন্ন হয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এজন্য অতিরিক্ত টক কোন ফল বিশেষ করে তেঁতুল খাওয়া যাবেনা।
  • গর্ভাবস্থায় আগুনের কাছে গিয়ে রান্না করা থেকে বিরত থাকতে হবে।কারণ এই সময়ে জামাকাপড় অসতর্কভাবে আগুনের কাছে চলে গেলে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড অর্থাৎ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ সময়ে কারো সাহায্য নিয়ে রান্না করতে হবে অথবা বাইরে থেকে কেনা খাবার খেতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।এই সময়ে মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় হঠাৎ পেটে ব্যাথা হলে কোন ভাবেই আগুনের শেক নেয়া যাবে না। আগুনের শেক নিতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
    পেটে ব্যথা হলে অবশ্যই নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারের কাছে তা বলতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় কোনরকম ব্যাথার ঔষধ বা এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা। এবং এ সময়ে কোনো ভারী জিনিস ওঠানামা করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • এই সময়ে কোন পিচ্ছিল জায়গায় অসতর্কভাবে হাঁটা যাবে না।যেমন কাপড় কাচতে গিয়ে অনেক সময় বাথরুমে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

তাই এসব কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং করলেও অবশ্যই কাউকে সাথে রাখতে হবে। কোন মহিলার যদি মদ্যপানে আসক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় তা ত্যাগ করতে হবে। ব্যাপারটি শুনতে অবাক করা হলেও এটাই সত্যি যে অনেক মহিলাই বর্তমানে মাদকাসক্ত। তাই অন্তত গর্ভাবস্থায় সময়টুকু মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে নইলে আপনার শিশুর জীবন ঝুঁকি সৃষ্টি হবে এবং বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেয়ার প্রবণতা বাড়বে অর্থাৎ একজন মা হিসেবে আপনার গর্ভাবস্থায় এ সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে।
অসতর্ক কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে তবেই একটি সুস্থ শিশু জন্মদান করা সম্ভব হবে।

About bdbarguna24

Check Also

যেখানে হাড়, মাথার খুলি, পোড়া ত্বকের টিস্যু পাওয়া যায়

Rate this post যেখানে হাড়, মাথার খুলি, পোড়া ত্বকের টিস্যু পাওয়া যায় হবিগঞ্জের বাসিন্দা কানিজ …

Leave a Reply Cancel reply