সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন
সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন

সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন

Rate this post

সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন

সৃষ্টিকর্তার আমাদের জন্য নিয়ামত হিসেবে অনেক ফল সৃষ্টি করেছেন। ফল সাধারণত সুমিষ্ট সুস্বাদু এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ। এমন কোন ফোন নেই যা আমাদের জন্য উপকারী নয়। ফল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন। ফলের চাষ করে প্রাকৃতিকভাবেই পুষ্টির অধিকারী হওয়া যায়। তবে এমন কিছু ফল আছে যা সম্পূর্ণ ঔষধি গুণসম্পন্ন। এসব ফল খেলে ঔষধ কেনার কোন দরকার হয় না বরং ঔষধি গুণ এর মধ্যেই বিদ্যমান।আজকে আমরা জেনে নেব এমন কিছু ফলের নাম যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

১. প্রথমে বলতে হয় ডালিম এর কথা। ডালিম অত্যন্ত সুমিষ্ট একটি ফল। এটি খুবই লোভনীয় ফল। এমন কোনো মানুষ নেই যে ডালিমের স্বাদে আকৃষ্ট নয়। এই ডালিম ফল এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ডালিম খেলে শরীরের রক্ত তৈরি হয়।মহিলাদের অ্যানিমিয়া জনিত সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই সমাধান করা যায় ডালিম খাওয়ার মাধ্যমে। সেইসাথে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. এরপর বলতে হয় কাঁঠালের কথা। কাঁঠাল একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল। এতে ভিটামিন উপস্থিত। কাঁঠাল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কাঁঠালের অবদান রয়েছে।

সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন

৩. মানুষের শরীরের জন্য উপকারী আরো একটি ফল হলো আপেল। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে আপেল চাষ শুরু হয়েছে। তবে আপেল মূলত বিদেশি ফল। আপেলে ভিটামিন b6 এবং বিটা ক্যারোটিন উপস্থিত। এটি আমাদের রক্ত চলাচল সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া আপেল রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কুঁচকে যাওয়া চামড়া টানটান ও উজ্জ্বল করতে আপেল খাওয়া উচিত। এটি বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল হল আমলকি।অতটা মিষ্টি নয় তবে এর ঔষধি গুন অনেক বেশি। আমলকি বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি সারাতে সাহায্য করে। বহুমূত্র রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে আমলকি। আমলকি খেলে বদহজম এবং এসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমলকি আমাদের দেশে অত্যন্ত সহজলভ্য। বাজারে বিক্রয় করা আমলকি দামে অনেক কম।

৫. আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পেঁপে। পেঁপে কাঁচা অবস্থায় সবজি এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়। পাকা পেঁপে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ধারণ করে।পাকা পেঁপে একটি রঙিন ফল রাতকানা রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে।পাকা পেঁপে আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন এ।
এজন্য যে শুয়োরের বাচ্চা কম বয়সেই রাতকানা রোগে আক্রান্ত তাদের উচিত প্রচুর পরিমাণে পেঁপে খাওয়া। পেঁপে চাষ করা খুবই সহজ কারণ যেখানে সেখানে পেঁপের বীজ ছড়িয়ে রাখলে তা থেকে চারা গজায়। এছাড়া পেঁপে বাজার থেকে ক্রয় করে খাওয়া সহজ কারণ ইহা দামে সস্তা।

সাতটি ঔষধি ফল যা খেলে আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন

৬. বেল আরো একটি ঔষধি ফল হিসেবে কাজ করে। বদহজম জনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এটি । অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে।এক গ্লাস পানিতে 2 চামচ বেল ভালোভাবে মিশিয়ে খেয়ে নিলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিজেই সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়াও এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে বেল। বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে পারো একটি ফল খাওয়া জরুরি এবং তা হলো জাম। জাম একটি রঙিন ফল। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জামের চাষ হয়। এছাড়া গ্রাম অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই জামের গাছ রয়েছে। জান আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। জামের প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থায়ামিন নাসরিন ও রিবোফ্লাবিন রয়েছে। এসব উপাদান আমাদের মারা যাওয়া অনুজ্জ্বল কোষগুলোকে জাগিয়ে তোলে।এছাড়া চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া অথবা চোখ চুলকানো এরকম রোগ সমাধান করতে প্রচুর পরিমাণে জাম খাওয়া উচিত।

এ কথার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আমাদের প্রকৃতি যেন সম্পদের আধার। আমাদের জন্য সৃষ্টিকর্তা বহু ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের দায়িত্ব হলো ফলগুলো যেন যথাযথভাবে পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এবং বিলুপ্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।কোন সমস্যা হলে প্রাকৃতিক ভাবেই তার সমাধানের চেষ্টা করা। কারণ ফলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এগুলো খেলে প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ সুন্দর ও উজ্জ্বল চেহারা পাওয়া সম্ভব। এছাড়া বহু ভয়ঙ্কর রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে এসব ফল। তাই আমাদের জন্য এসব ফল খাওয়া অত্যন্ত জরুরী।

About bdbarguna24

Check Also

স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় এওকজন স্বামীর করনীয়

Rate this post স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় এওকজন স্বামীর করনীয় প্রতিটা স্বামী স্ত্রীর স্বপ্ন দেখে তাদের …

Leave a Reply Cancel reply