কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন
কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন

কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন

5/5 - (2 votes)

কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন

প্রতিটি বাবা মায়ের ইচ্ছা তার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা।সন্তান জন্মদানের পর থেকেই বাবা-মায়ের ভাবনা শুরু হয় কিভাবে সন্তানটিকে ভালো শিক্ষা দিয়ে মানুষের মত মানুষ করা যায়।
অনেক বাবা-মা এই সফল হয় তবে, কিছু কিছু বাবা মা এ ব্যাপারে ব্যর্থ হয়। আজকের অনুচ্ছেদে প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রতি কিছু পরামর্শ থাকবে যা যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে আপনারা আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় অর্থাৎ সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন।

প্রথমত আপনার সন্তানকে বুঝুন। তার ওপর জোর করে কোন ক্যারিয়ার চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। ছোটবেলা থেকেই তার সকল আচার আচরণ লক্ষ্য করুন। তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার আগে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করুন। বড়দের সম্মান করা শিক্ষা দিন, ছোটদের কে স্নেহ করতেও ভালবাসতে শেখান। আপনার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করার পর থেকে তার পড়াশোনার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন। তাকে তার দৈনন্দিন পাঠ প্রস্তুত করতে সাহায্য করুন।দরকার হলে গৃহশিক্ষক বা অতিরিক্ত কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থা করুন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করুন। মুসলমান হলে অবশ্যই তাকে কুরআন শিক্ষা দিন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মাদ্রাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মনে রাখবেন উচ্চশিক্ষা মানে শুধুমাত্র বইয়ের শিক্ষা নয়, এটি মূলত আচার-আচরণ গত এবং মানবিকতার শিক্ষা।

 

কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন

তাই আপনার সন্তানকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তার আচার-আচরণ সুন্দর করার শিক্ষা দিন।ধীরে ধীরে যখন আপনার সন্তান উপরের শ্রেণীতে উঠবে, তখন তার প্রতি যত্ন আরো বাড়িয়ে দিন । একসময় সে শৈশব বার করে কৈশোর এবং বয়সন্ধিকালে পদার্পণ করবে। এ সময় তার মনে নানারকম কৌতূহল ও আবেগ কাজ করবে। এই সময়ে তার বিশেষ খেয়াল রাখুন। তার পড়াশোনার যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে ক্ষেত্রে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তানের পড়াশোনার সকল সরঞ্জাম এবং সবরকম সাপোর্ট যোগান দেয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, একটি সুসন্তান শুধুমাত্র আপনার সম্পদ নয় এটি সারা পৃথিবীর সম্পদ। তাই একটি অনুসন্ধান করে পৃথিবী কে উপহার দিয়ে, নিজেদের আদর্শ বাবা মা হিসেবে পরিচয় দিন।

আপনার সন্তানকে কখনো খারাপ সঙ্গে মিশতে দিবেন না। একটি প্রচলিত কথা আছে তা হল সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। অর্থাৎ খারাপ সঙ্গে আপনার সন্তানআচরণগত ও চারিত্রিক দিক দিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আপনি খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান কাদের সাথে মিশছে এবং কতটা পড়াশোনা করছে। যখন আপনার সন্তান নবম-দশম শ্রেণীতে উঠলো তখন আপনি খেয়াল করবেন সে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে কেমন পারদর্শী। সে কতটা পড়া বোঝে এবং কতটা মুখস্ত করে। সেই অনুযায়ী আপনার সন্তানকে সায়েন্স আর্টস না কমার্স পড়াবেন তার সিদ্ধান্ত নিন। আপনি খেয়াল করবেন আপনার সন্তান গণিতে কেমন নম্বর পাচ্ছে। এবং খেয়াল করবেন আপনার সন্তান সমাজ এবং বাংলা বিষয়ে কেমন নম্বর পায়। তার উপর কোন পড়া বা বিষয় চাপিয়ে দিবেন না। শাখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তার পারদর্শিতার দিকটি বিবেচনা করবেন। সে যদি বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে পারদর্শী হয় তাহলে তাকে সায়েন্স নিতে উদ্বুদ্ধ করুন।

 

কিভাবে আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন

এছাড়া গণিত ও বিজ্ঞানের অপারদর্শী হলে তাকে আর্টস নিতে পরামর্শ দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে তাকে উপযুক্ত কোচিং সেন্টারে ভর্তি করার ব্যবস্থা করুন। কোচিং সেন্টার বা হোস্টেলে থাকা কালে তাকে যথেষ্ট টাকা পয়সা খাদ্যের যোগান এবং সব রকম সাপোর্ট দিন। অনেক সন্তান বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দেওয়া সহ নানা রকম খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, সেইসাথে পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে আপনি অবশ্যই খেয়াল রাখুন। উচ্চশিক্ষা করার জন্য সর্বপ্রথম তার গোরা বা ভিত্তি শক্ত হতে হবে। ভিত্তি মজবুত হলে অনেক কঠিন পড়া সে আয়ত্ত করতে পারবে। তাকে উপযুক্ত সাপোর্ট এবং মানসিকভাবে সুস্থ রাখুন। বর্তমানের করণা পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক পড়াশোনায় অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গেছে।ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের বন্ধুবান্ধবের সাথে মিলেমিশে পড়াশোনা করতে পারছে না। তাদের মানসিকতার উপর অনেক প্রভাব পড়ছে। এই সময়ে বাবা-মা অবশ্যই তাদের পাশে থাকবেন।

https://www.youtube.com/watch?v=8vcYUQnNQ-E&t=51s

তাদেরকে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই তাদের সমস্যা এবং কথাগুলো শুনবেন।আপনার যতই ব্যস্ত থাকুক কাজের ফাঁকে আপনার সন্তানকে সময় দিন। আপনার সন্তান যেন ডিপ্রেশনে না ভোগে সেটা খেয়াল রাখুন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাবা মায়ের ভূমিকা প্রধান।কারণ একটি সন্তানকে আর্থিক সাপোর্ট দেয়া থেকে শুরু করে মানসিক সাপোর্ট সবকিছুই পাশে বাবা-মা থেকে। তাই আপনি আপনার সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করুন। তার উৎসাহ কোন কোন বিষয়টা খেয়াল করুন এবং সেই অনুযায়ী তাকে উৎসাহ দিন।কোন বিষয়ে তার উপর চাপিয়ে না দিয়ে কোন বিষয়টি পড়েছে মজা পায় বা কোন বিষয়টি বেশি বেশি পড়তে চায় তা খেয়াল করুন। উচ্চশিক্ষা করে আপনার সন্তান আপনাকে টাকা দিক বা না দিক, আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব রকম সাপোর্ট দেয়া আপনার কর্তব্য। সন্তানের ভালো একমাত্র বাবা মা ছাড়া অন্য কেউই চায় না। আপনি ছাড়া আপনার সন্তানের আর কেউ নেই। তাই সব বাবা-মায়ের প্রতি আমার এটাই বক্তব্য যে, অন্তত আপনার সন্তান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত তাকে সবরকম সাপোর্ট দিন।সে যেন কোনভাবে ভেঙে না পড়ে এবং সবসময় তাকে আশ্বাস দেন যে আপনারা তার সাথে আছেন।

About bdbarguna24

Check Also

০-৪ বছর বয়সে আপনার শিশুকে যা যা শিক্ষা দিবেন

5/5 - (1 vote) ০-৪ বছর বয়সে আপনার শিশুকে যা যা শিক্ষা দিবেন একটি শিশু …

One comment

  1. Pingback: পাকিস্তানি শাসন আমল - BD BARGUNA 24

Leave a Reply Cancel reply