Darson,ধর্ষন

ধর্ষণের কারণ কি ?পোশাক নাকি ব্যাক্তির মানসিকতা ?

Rate this post

ধর্ষণের কারণ কি ?পোশাক নাকি ব্যাক্তির মানসিকতা ?

ইদানীং একটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে অনেক দিন থেকেই তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টা হচ্ছে ধর্ষণ। একদল বলছে ধর্ষণের জন্য দায়ী হচ্ছে পোশাক, নাচ-গান-সিনেমা, পর্ণ আর আরেকদল যারা সমাজের হর্তা-কর্তা হিসেবে বিবেচিত তারা বলছে এসব কিছুই নয়, এর জন্য দায়ী ব্যাক্তির নিজস্ব মানসিকতা। তবে আমার মতামত হচ্ছে ব্যাক্তির মানসিকতা পরিবর্তনের উপাদান হিসেবে এই নাচ-গান, পোশাক, পর্ণ এগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করে।আমি বৈজ্ঞানিক কোন বিশ্লেষণে আপাতত যাচ্ছিনা, তবে বিষয়টি এর বাইরেও নয়।

ধর্ষণের কারণ কি ?পোশাক নাকি ব্যাক্তির মানসিকতা ?

আসুন বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করি।
বর্তমানে সবচেয়ে সফল ভাবে যে যুদ্ধ চলছে তা হচ্ছে সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। কেন এই যুদ্ধ?ধরুন একজন লোক আপনাকে ঘৃণা করে এবং মেরে ফেলতে চায়। এখন আপনি এমন কিছু একটা করলেন যাতে সে আপনার কাছে নিজে থেকেই ধরা দিবে, ধীরে ধীরে আপনিই তাকে মারবেন এবং সেই ব্যাক্তির সন্তান বা আত্বীয়-স্বজন কেউ আপনাকে সন্দেহ করবেই না আপনিই তার মৃত্যুর কারণ। আর সন্দেহ করলেও তাদের দ্বিধাবিভক্ত করা যাতে কেউ আপনার পক্ষ অবলম্বন করে। এই পক্রিয়াটাই হচ্ছে মগজ ধোলাই।

ঠিক একই রকম ভাবে একটা মানুষ জম্মের পরে ধর্ষক হয়ে জম্মায় না। তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সঙ্গদোষ, কুশিক্ষাই তাকে তা বানায়। ছোট থেকেই তার মগজ ধোলাই হতে থাকে এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে নিজের উপর আর তার নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

আমি জন্মের পরে বেড়ে উঠা ধীরে ধীরে এই সমাজে। ছোটবেলায় আমাদের বিনোদনের একমাত্র উপাদান ছবি “এ সপ্তাহের ছায়াছবি”। সিনেমায় দেখতাম ইলিয়াস কাঞ্চন, জসিম দের প্রেমে রোজিনা, নূতন কিভাবে পড়ে।এর পরের দশকে আসল কলেজের করিডোরে নায়কের সাথে নায়িকার ধাক্কা, এরপরে প্রেম।কিশোর-তরুণ মনে তখন প্রায়ই ভাবতাম আমার কবে এমন দিন/প্রেম কবে আসবে। এই যে বিষয়টা, আমি হলপ করে বলতে পারি প্রায় সব তরুণের মনেই এভাবেই নিজের কল্পিত প্রেমের দৃশ্যগুলো উপস্থাপিত হয়। এভাবেই মগজ ধোলাইয়ের পক্রিয়া শুরু হয়।এটা কেন ?

কারণ মানুষ যা দেখে মস্তিষ্ক তার অংশ সেইভ করে রেখে দেয়। এই যেমন স্বপ্নের বিষয়টা।স্বপ্ন দেখার পেছনে একেবারে প্রমাণিত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।বর্তমানে মগজ ধোলাইয়ের অন্যতম মূল উপদান হচ্ছে পর্নগ্রাফী।এটি বর্তমানে এমন প্রকট আকারে বেড়েছে যার কারণে আজ আমরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছি।


এরপর আছে তথাকথিত আধুনিকতা। আধুনিকতার নামে নগ্নতা এমনভাবে বেড়েছে তার ফলাফল হচ্ছে এই ধর্ষণ।যারা বলে থাকে মেয়েদের উগ্র চলাফেরা কেন ধর্ষণের কারণ হবে তারা কি বোঝাতে চায় ?স্রস্টা নারীদের এমনভাবেই সৃস্টি করেছেন, যাতে পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষিত হয় এবং বংশ বিস্তার করতে পারে।যে বিষয়টা স্বাভাবিক তাকে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ধরেই আমাদের আলোচনা।সবাইকে সতর্ক অবস্থান অবলম্বন করতে হবে আমাদের।

অর্থাৎ স্রস্টার নিয়মনুসারে একজন মেয়েই মা হতে পারবেন, একজন পুরুষ কখনোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মা হতে পারবেন না। মেয়েদের শারীরিক গঠনটাই এমন যে তা পুরুষদের আকর্ষণ করবে। এই কারণেই সেই স্বাভাবিকতার জন্যেই অনেক মেয়েই যৌন হেনস্তার শিকার হয়ে লোক-লজ্জার ভয়ে তা কাউকে বলে না, কারণ পাকৃতিক নিয়ম অনুসারে একটা মেয়ে লাজুক । এটা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে?

বর্তমানে কর্পোরেট হাউজগুলোর “কর্পোরেট লালসা”র শিকার হয়ে মেয়েদের এমনই অবস্থা তারা আজ সামান্য কোন বিজ্ঞাপনেও তাদের উপস্থিতি বাঞ্চনীয়। উদাহরণস্বরুপ – ধরুন একটা গাড়ীর বিজ্ঞাপন, সেখানে শর্ট ড্রেসের একটা মেয়ের উপস্থিতির কারণ কি থাকতে পারে? যেহেতু পর্ণ সহজলভ্য , আইনের শাসন কম, ধর্মীয় অনুশাসন নেই, মাদকের প্রতুলতা ইত্যাদি বিষয়কে সামনে রেখে ধর্ষণ কমানোর চিন্তা করাটাও পাপ।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি,

লেখক ঃ মেহেদী হাসান নাঈম

About bdbarguna24

Check Also

পাকিস্তানি শাসন আমল

5/5 - (1 vote) পাকিস্তানি শাসন আমল পাকিস্তানি শাসন আমল আমাদের দেশ অন্ধকার যুগ হিসেবে …

Leave a Reply Cancel reply